অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির বৈশিষ্ট্য সেরা ১০টি কোশল
পোস্ট সূচিপত্রঃ অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির বৈশিষ্ট্য
- অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির গুনাগুন
- অ্যালোভেরা চাষে মাটি ও জলবায়ু
- অ্যালোভেরা চাষের জন্য জমি তৈরি
- অ্যালোভেরা চারা রোপনের সময়
- চারা রোপনের দূরত্ব
- সেচ ও সার প্রয়োগ
- টবে এলোভেরা চাষাবাদ পদ্ধতি
- পোকামাকড় ও রোগবালায় দমন
- অ্যালোভেরা গাছের উপকারিতা
- শেষ কথাঃ অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির বৈশিষ্ট্য
অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির গুনাগুন
অ্যালোভেরা চাষের জন্য মাটির গুনাগুন নিশ্চিত করতে হবে। বাড়িতে বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে এলোভেরা গাছ চাষ করতে হলে মাটির গুনাগুন ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। অ্যালোভেরা গাছ সাধারণ উঁচু জায়গা লাগানো ভালো।অ্যালোভেরা গাছ লাগানোর জন্য মাটি, সুনিষ্কাশিত দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। দোআঁশ মাটি গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেয় না।
এলোভেরা গাছ হালকা বালুময় মাটিতে ভালো জন্মে তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, আঠালো বা এদের মাটিতে গাছ লাগালে গাছ মরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গাছের গোড়ায় পানির জন্মের গাছে শেকর পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দোআঁশ মাটির গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেয় না এবং গাছকে পচার হাত থেকে রক্ষা করে।
অ্যালোভেরা একটি ভেষজ গুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ। অ্যালোভেরা গাছ দেখতে আনারস গাছের মতো। আনারসের পাতা উপরে থাকে এবং ফল নিচে থাকে। কিন্তু এলোভেরা গাছের কোন ফল বা ফুল নাই। অ্যালোভেরা গাছ গাছের গোড়া থেকেই পাতা জন্মে। একটি গাছ থেকে ৬০-৭০ টি পাতা আহরণ করা যায়অ্যালোভেরা গাছের গোড়া থেকে সবুজাভাব পাতা বের হয় এবং পাতাগুলো পুরো হয়, পাতার দুই সাইডে করাতের মতো ছোট ছোট কাটা থাকে। পাতার ভেতরে এক ধরনের শ্বাস থাকে যা এলোভেরা জেলি নামে পরিচিত।
অ্যালোভেরা চাষে মাটি ও জলবায়ু
যে কোনো মাটি ও জলবায়ুতে অ্যালোভেরা গাছ জন্মায়। তবে বেলে দোআঁশ মাটিতে অ্যালোভেরাগাছ ভালো হয়। দোআঁশ মাটিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো। এই মাটিতে গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেয় না, গাছকে পচার হাত থেকে রক্ষা করে। হালকা উঁচু জমিতে এ গাছ লাগাতে হয়। কিছু জমিতে বা পানি জমে থাকে এই রকম জমিতে লাগালে এ গাছ মরে যাবে।
অম্লীয় ও বা লবণাক্ত জমি অ্যালোভেরা গাছ ভালো হয় না। দোআঁশ মাটিতে চাষ ভালো হয় তবে বেলে দোআঁশ উত্তম। ছায়া জায়গায় অ্যালোভেরা গাছ হয় না। সব সময় রোদ পড়ে এইরকম জায়গা নির্বাচন করতে হবে। যত অ্যালোভেরা গাছে রোদ লাগবে তত পাতা বড় হবে এবং পাতার ভিতরে শ্বাস বেশি হবে।
অ্যালোভেরা চাষের জন্য জমি তৈরি
জমি চাষের সময় প্রাকৃতিক জৈব সার গোবর ব্যবহার আর মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।অনেকেই ছাই ব্যবহার করেন।এলোভেরা চাষের ক্ষেত্রে সার লাগে না বললেই চলে। তবে বিঘা পতি ২৫-৩০ কেজি টিএসপি ও ১০ কেজি এমওপি সার জমি প্রস্তুত করার জন্য দেওয়া যেতে পারে।
- চারা রোপনের সময় জমি বেড করতে হবে
- ১.৫ থেকে ২. ২৫ মিটার চওড়া হবে
- পানির জন্য দুই বেডের মাছ খান ৪০--৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা রাখতে হবে
- সারি থেকে সারির দূরত্ব ৭ ইঞ্চি
- প্রতি সারিতে ছয় ইঞ্চি পর পর চারা লাগাতে হবে।
অ্যালোভেরা চারা রোপনের সময়
অ্যালোভেরা গাছ চাষের জন্য তিন ধরনের চারা ব্যবহার করা হয়।সেগুলো হলো
- রুট বা সাকার
- মোথা
- গাছের গোড়া থেকে জন্মানো গাছ ও গাছের গোড়া কেটে ফেলে পুরো গাছ
বাণিজ্যিকভাবে অ্যালোভেরা গাছ চাষ করলে চারা হিসেবে মোথা লাগালে তিন মাসের মধ্যে পাতা বাজার করা যায়। রুট বা সাকার লাগালে ৬ মাস সময় লাগে গাছ বড় হতে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে গাছের মোথা লাগানো শ্রেয়। অল্প সময়ে অ্যালোভেরা গাছের পাতা বাজারজাত করা যায়।
পুরনো গাছের গোড়া থেকে জন্মানো চারা মাতৃগাছ থেকে আলাদা করে, প্রথম এক খন্ড
জমিতে বা বেডে লাগানো হয়। পরে মূল জমি চাষ দিয়ে এসব চারা তুলে কাঙ্খিত জ্মিতে
লাগানো হয় এতে চারা ভালো প্রতিষ্ঠা পায়। অনেক দিন জমিতে থাকার পর একই গাছ থেকে
উপযুক্ত পাতা তোলার পর গাছ খাড়া হয়ে থাকতে পারে না। তাই দুই তিনটা
পাতা রেখে গাছ অন্য জায়গায় রোপন করতে হবে। এতে খেয়াল করতে হবে যে ওই গাছের কোন
রোগ জীবাণু ধরেছে কিনা।
চারা রোপনের দূরত্ব
অ্যালোভেরা চাষের জন্য জমি পেট আকারে করে নিতে হবে। এক দের থেকে আরেক বেডের দূরত্ব হবে ৭ ইঞ্চি। আর বেডের ভিতর এক গাছ থেকে আরেক বাঁচার দূরত্ব হবে ৬ ইঞ্চি। প্রতি বেড ১.৫ থেকে ২.২৫ মিটার চওড়া হবে। দুই বেডের মাঝখানে 40 থেকে 50 সেন্টিমিটার চওড়া রাখতে হবে। চারা রোপনের পরপরই সেচ দিয়ে গাছের গোড়া ভিজিয়ে দিতে হবে।
সেচ ও সার প্রয়োগ
অ্যালোভেরা চাষের জন্য তেমন কোন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না।। তবে জৈব সার
হিসেবে গোবর খায় নিমপাতা ও খেল ব্যবহার করা উত্তম। জৈব সার ব্যবহার গাছের জন্য
ভালো। তবে ইউরিয়া সার বছরে একবার দিতে পারেন বৈশাখ জৈষ্ঠ মাসে। ইউরিয়াসা সার
দেওয়ার পর জমি ভালোভাবে নিরানি দিতে হবে। বেশি পরিমাণে ইউরিয়া সার দিলে প্রকার
উপক্রম বেড়ে যায়। তাই পরিমাণ মতো ইউরিয়া সার দেওয়ার উচিত।
সেচ ব্যবস্থা অ্যালোভেরা গাছের জন্য প্রয়োজন। কেননা অ্যালোভেরা গাছের
নিয়মিত সেচ দিতে হয় গাছের গোড়ায় যেন পানি আটকে না থাকে সেদিকে খেয়াল
রাখতে হবে। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে গাছ পচে যায়। এমন ভাবে পানি দিতে হবে
যেন পানি জমে না থেকে গাছগুলোকে ভিজিয়ে দিয়ে পানি গড়িয়ে চলে যায়।
টবে এলোভেরা চাষাবাদ পদ্ধতি
অনেকেই বাড়ির ছাদে টবে অ্যালোভেরা গাছ লাগিয়ে থাকেন। টবে গাছ লাগালে অত বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। জেনে নিন তবে অ্যালোভেরা চাষ পদ্ধতি। প্রথম অ্যালোভেরা চাষের জন্য পাতা সংগ্রহ করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে পাতার নিচে সাদা অংশ যেন পাতার সাথে থাকে। এবার সাধারন মাটি গর্ত করে পাতাটি বসিয়ে দিন এবং পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন। শেকড় গজাতে শুরু করলে বড় পাত্রে সরিয়ে লাগাতে পারেন। এতে করে এলোভেরা গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।
কবে ঝরঝরে মাটি দিয়ে টপটি পূর্ণ করুন মাটির মাঝখানে চারা গাছটি পুঁতে দিন এবং
পানি দিয়ে দিন প্রতিদিন পানি দিতে হবে টব গুলো এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন
সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে চার সপ্তাহ পর এলোভেরা গাছ বাড়তে শুরু করবে
টবে গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক জৈব সার ব্যবহার করতে পারেন।টবে গাছ
লাগানোর জন্য মাটির তৈরিতে খায় গোবর ব্যবহার করতে পারেন। আবার ঘরে থাকা উপকরণ
দিয়েও আপনি জৈব সার তৈরি করে অ্যালোভেরা গাছের যত্ন নিতে পারেন। যেমন এক মুঠো
ভর্তি আলুর খোসা,৪ থেকে ৫ টা ডিমের খোসা চূর্ণ করে নিন, কয়েকটা কলার খোসা
নিন। সবগুলো উপকরণ একত্রে করে দেড় লিটার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
পানির পাত্রটি ঢেকে রাখুন। তিনদিন পর ফেনা উঠলে পানিগুলো ছেকে নিন। তারপর
পানিগুলো টবে লাগানো কাজগুলোতে দিন। অ্যালোভেরার গাছে ১৫ দিন পরপর এই পানি
ব্যবহার করুন। এতে টবের গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটবে।
পোকামাকড় ও রোগবালায় দমন
এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী গাছ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন হয় না তবে গোড়া পচা রোগ ও যা প্রকার আক্রমণ দেখা যেতে পারে।গোড়া পচা রোগ হলে গাছের গোড়া পচে গিয়ে অ্যালোভেরা গাছ মারা যায় যদি গাছের গোড়ায় পানি না জমে তাহলে পোড়া পচা রোগ হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে পোকার জন্য কীটনাশক ঔষধ স্প্রে করতে হবে।
এছাড়াও পাতার দাগ পড়ার রোগ শীতকালে কম থাকে। কিন্তু শীত শেষে ফাল্গুন মাসে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত ছত্রাক নাশক প্রয়োগে তেমন ফল পাওয়া যায় না।
অ্যালোভেরা গাছের উপকারিতা
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারি স্বাস্থ্য বা রূপচর্চায় অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ
উদ্ভিদ।অ্যালোভেরা পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিজেন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরকে
সুস্থ রাখে ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে, ছোটখাটো কাটা ছেঁড়া ও রোদে পোড়া ত্বকের
উপশম করে এবং চুল পড়া রোধ করে।
ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা উপকারিতা
- ময়েশ্চারাইজিং এবং হাইডেটিংঃ অ্যালোভেরা জেল ত্বকের ময়েশ্চারাইজিং জন্য অতুলনীয় এটি অচর্বির যুক্ত হওয়ায় প্রতি দিন ব্যবহারের জন্য আদর্শ করে তোলে
- সানবার্ন বা রোদে পোড়াঃরোদে কাজ করতে করতে কি আপনার ত্বকে রোদ পোড়া ভাব বা সানবার্ন হয়ে গেছে। তাহলে নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে কমে যাবে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের মৃত কোষ দূর করে বলিরেখা সূক্ষ্মরেখা দূর করতে সাহায্য করে
- ক্ষত, কাটা এবং ঘর্ষণ নিরাময়ঃ অ্যালোভেরা দীর্ঘকাল ধরে থেরাপিউটিক ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এটি ক্ষত ও ঘর্ষণ নিরাময় করে।
- চুলের বৃদ্ধিঃ এলোভেরা জেল চুলের গ্রন্থি গুলোকে উজ্জীবিত করে চুলের বিকাশকে উৎসাহ দেয়. এটি দিয়ে আপনার মাথার ত্বক নিয়মিত মেসেজ করুন। আপনার চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে সমর্থন করতে আপনি অ্যালোভেরার রস পান করতে পারেন।
- চুলের কন্ডিশনিং ও মজবুত করাঃ অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। চুলকে মজবুত ও মৃসন করে। চুলের মাক্স রেসিপি গুলোর জন্য ঘরে তৈরি এলোভেরা কন্ডিশনার প্রভাবকে তীব্র করতে পারেন এবং আপনার চুলকে শক্তিশালী করতে পারেন।
- খুশকি এবং মাথার চুল ত্বকের চুলকানি ঃঅ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাবলী এটিকে খুশকির জন্য কার্যকর করে তোলে। এটি মাথার ত্বকে হাইড্রেট রাখে এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দেয় বিশেষ করে মাথার ত্বকের সমস্যা চিকিৎসার জন্য তৈরি অ্যালোভেরা পণ্য ব্যবহার করে দেখবেন।চুল পড়া রোধ করে এবং চুল পড়া বন্ধ কমায় এলোভেরা।
- হজমের সহায়তাঃ এলোভেরা রস হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
- রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণঃ অ্যালোভেরা জুস নিয়মিত সেবন করলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে এবং রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ এতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যার শরীরের জন্য ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

.webp)
.webp)
ফকটেক ২৪ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন
comment url